গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। এ সময় এক্সচেঞ্জটির প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে বেশির ভাগ খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৬৫৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৩৫ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহ ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৩৩ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফায় সম্ভাব্য পতন নিয়ে বিরাজমান উদ্বেগের মধ্যে সপ্তাহের শুরু থেকেই বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। এতে বাজারে শেয়ারের দরপতন বাড়তে থাকে। এর ফলে প্রায় দুই মাস পর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে পুঁজিবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। বাজারের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ইতিবাচক বক্তব্যের পর সূচক কিছুটা বৃদ্ধি পায়। ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৭টির, কমেছে ১৭০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মালেক স্পিনিং মিলস, পিটিএল, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও সায়হাম কটনের শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ করে দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে বেশির ভাগ খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সাধারণ বীমা খাতে। এছাড়া ভ্রমণ ও পাট খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে দশমিক ৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা খাতে ২ দশমিক ১ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ, ব্যাংক খাতে দশমিক ৯ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ১৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ১৬৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে প্রায় ১১৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১৪৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির শেয়ারদর।